বেচারা উঠে আমাকে জায়গা করে দিলো।

পাবলিক বাসে দুই গোপাল ভাড়ের মাঝখানে আর্মির মত সোজা হয়ে দাড়িয়ে আছি।ওনাদের কলসির মতো ভূড়ির চাপায় আমি পিষ্ট হয়ে যাওয়ার যোগাড়।তার উপর একজনের মুখ থেকে ইঁদুর পঁচা সুগন্ধে আশেপাশের বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে।মনে হচ্ছিলো কোনো ময়লার ভাগাড়ের সামনে আমি দাড়িয়ে আছি।

এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য বিপদের দোয়া পড়তেছিলাম।দোয়া পড়ে বুকে ফু দিয়ে একটু পিছন দিকে তাকালাম দেখলাম এক সুন্দরী তরুণী আমার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।এই প্রথম কোনো রুপসী আমার দিকে এমন করে তাকালো তাই আমি একটু লজ্জা পেয়ে দৃষ্টি নিচের দিকে নামিয়ে নিলাম।আওয়াজ আসলো আরে আপনি খালিফা নাঈম না? 
আমি চমকে উঠে বল্লাম হ্যাঁ
-আপনি তো লিখালিখি করেন তাই না?
– ইয়ে মানে কয়েকদিন হলো হাবিজাবি রম্য লিখি আরকি
-আরে আপনি জানেন আমি আপনার কত বড় ফ্যান? (আমার তখন বাসের ছাদ ফুঁড়ে আকাশে উড়ে যাওয়ার অবস্থা)
– কি বলেন সত্যি নাকি?
– আরে হ্যাঁ, বই পোকা গ্রুপে আপনার লিখা মাঝেমধ্যে পড়ি আমার অনেক ভালো লাগে।

তখনও আমি দাঁড়িয়ে ই আছি।সুন্দরী তখন তার পাশে বসা ছেলেটাকে বল্লো “অবাক তো তুমি বসে আছো?উঠো লেখক সাহেবকে জায়গা দাও ওনার মতো হতে পারবা কখনো?ওনি তোহ বাংলাদেশের সম্পদ”। এভাবে কেনো বলছে, আমাকে কি আবেগে কাঁদিয়েই ছাড়বে নাকি মেয়েটা (মনে মনে)
হাবভাব দেখে বুঝলাম এইটা ওনার বয় ফ্রেন্ড।

বেচারা উঠে আমাকে জায়গা করে দিলো। এই প্রথম কোনো সুন্দরীর সাথে বাসে করে যাচ্ছি। আহ! কি মুহুর্ত।গাইতে ইচ্ছে করছে এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত বলো তো…. 
এই জ্যামের শহর ঢাকাকে আজ খুব ভালো লাগছে। জনম জনম থাকুক এই জ্যাম।মনে মনে একটা কবিতা আবৃত্তি করলাম।

লেগেছে রাস্তায় জ্যাম 
পাশে সুন্দরী নারী,
সারা জীবন এভাবেই থাকতে চাই
যেতে চাই না বাড়ি।

মেয়েটা আমাকে জিজ্ঞাসা করলো কোথায় যাবেন 
-এইতো এয়ারপোর্ট 
-আরে আমিও তো ওখানেই যাবো
– ওহ তাহলে তো ভালোই

নেমে গেলাম আমরা। বয়ফ্রেন্ড বেচারা আমাদের পিছু পিছু হাঁটছে। মেয়েটার ভ্যানিটি ব্যাগও ওনার কাছে।তার চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে তার চেয়ে অসহায় ব্যাক্তি এই দুনিয়াতে আর দ্বিতীয় টি নেই।

বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর মেয়েটি বল্লো চলেন কিছু খাই 
-আরে না না আমার ক্ষুধা নাই
-আরে চলেন তোহ 
বিপদে পড়ে যেতে হলো।ভক্তের আবদার বলে কথা। না কিভাবে করি।পাছে ভক্ত থেকে হেটার্স হয়ে যায়।

একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। গ্রিল চিকেন, নান রুটি অর্ডার করা হলো।আমি হামলে পড়লাম সেগুলোর উপর।লজ্জায় বলেছিলাম ক্ষুধা লাগেনি কিন্তু ক্ষুধায় আমার পেটের ভেতর হালকায়ে জিকির হচ্ছিলো।

রুটি একটা শেষ করে দ্বিতীয়টা মুখে নিয়েছি এমন সময় কে যেনো আমার রুটিতে ভাগ বসাতে চাইলো। মুখ থেকে কেড়ে নিতে চাইছে আমার রুটি।কিন্তু আমি দিচ্ছি না।প্রাণপণে রুটিটা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।

-আরে ভাই কেডা আপনে? আমার রুটি ধইরা টানতাছেন ক্যান? সরেন মিয়া গরিব, খাইতে দেন আমারে

-হারামজাদা বাপেরে ভাই কস? উঠ ঘুম থেকা,খেতা তো অর্ধেক মুখের ভিত্রে ভইরা ফালাইছস

লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। হে খোদা!এইটা স্বপ্ন ছিলো?এ কেমন নির্মম বিচার? কিন্তু মনে মনে ভাবলাম যাক বাঁচা গেলো কাঁথা পুরোটা খাওয়ার পূর্বেই আব্বু ডাক দিয়েছিলো। নাহলে আজকে গেছিলাম।

গল্প: স্বপ্ন 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *