আপনায় না সকালে চলে যেতে বললাম রেযাহ্

খাবার খেয়ে রুম আসতেই দেখি আয়নায় লেগে থাকা রক্ত গুলো দিয়ে লেখা-
“সময় আছে চলে যান” 
আমি মুচকি হেসে লিখার ছবি উঠিয়ে স্যারকে মেইল করে দিলাম।

সন্দেহের তীর এই মুহূর্তে দুইজন ব্যক্তির দিকে। হয় করিম চাচা! নয়তো সেই যুবক। কিন্তু করিম চাচার মানুষের ক্ষতি করার কারণ তো দেখছি না! নাকি কিছু একটা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে? মেসেজের শব্দে ঘোট কাটলো। স্যার মেইল করেছে।

“Congress plan B also complete”

স্যারের মেইলটা দেখে স্বস্তি হচ্ছিলো। আর মাত্র দুইটা প্ল্যান বাকি। এরপর সব রহস্য উন্মোচন হয়ে যাবে। পরের প্ল্যানে কাজ করার আগে জানতে হবে এসবের কোন কিছুর সাথে করিম চাচার সম্পর্ক আছে কিনা।

বিকালে মলি চাচীদের বাসায় গিয়ে তার সাথে কথা বলে এতটুকুই আবিষ্কার করতে পেরেছি করিম চাচাকে সন্দেহ জনক কোন কিছু করতেও দেখে নি, কোথাও যেতেও দেখে নি। চাবির বিষয়টা জিজ্ঞেসে তিনি জানায় “এত বছর যাবৎ বাড়ি দেখাশুনা করে। আমার বাবাই না কি তাকে চাবিটা দিয়ে গেছে।” যদিও এই কথাটা মহিলা একটু আমতা আমতা করেই বলেছে। সন্ধ্যায় করিম চাচাকে ডেকে পাঠালাম। 
রাত আটটা নাগাত বাসায় আসলো। গেট খুলে দিয়ে তাকে যখন ভিতরে আসতে বললাম তার চোখে মুখে অদ্ভুত একটা ভয়ের ছাপ ছিলো। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই নিজ থেকে বলা শুরু করলো-
“দেখো মা! তুমি একজন গোয়েন্দা পুলিশ। মলি আমায় বলছে সব। আমিও তোমার কাছে আসতাম। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি এসবে জড়িত না! শুধু বাড়ির দেখা শুনা করার সময় কিছু জিনিস চোখে লাগতো এই যা!”
“কি কি দেখেছেন করিম চাচা আমায় একটু জানান” 
“তোমার দাদার মৃত্যুর ৪ দিন কাটিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে চলে যায় তোমার বাবা। তোমার দাদার শেষ চিহ্ন ছিল এই বাড়ি তাই বিক্রি করে নি। তোমরা চলে যাওয়ার ৪০ দিন পর আমি এই বাড়ির দরজা খুলি। তোমার রুমে গেলে আমি একজন ছেলেকে দেখতে পাই। সে আমায় হুমকি দেয় ” এই বাড়িতে আসা যাওয়া করতে পারবো তবে পাশের বিল্ডিং এর কোন খবর কেউকে দিতে পারবো না।”
“আচ্ছা! ১০ জন ব্যক্তির সুইসাইড করার সম্পর্কে কিছু জানেন!”
“ঐ অভিশপ্ত বিল্ডিং এর চারপাশে যত বিল্ডিং ছিল সব জায়গা থেকে মেয়ের বাবারা সেচ্ছায় ছাদ থেকে লাফিয়ে সুইসাইড করেছে।” 
“কেউ দেখেছে সুইসাইড করতে?”
“অনেকেই দেখেছে।”
“চাচা যদি আরো কিছু লুকিয়ে থাকেন এবং সেটা যদি পরে জানতে পারি আমার পক্ষে কিন্তু আপনাকে কোনো রকম সাহায্য করা সম্ভব হবে না।”
“আচ্ছা মা।” 
করিম চাচাকে বিদায় দিয়ে স্যারকে কল করে সুইসাইডের ব্যক্তিদের ঘটনা গুলো জানালাম। এবং সেই ব্যক্তিদের বায় ডাটা গুলো পাঠিয়ে দিতে বললাম। ব্যালকোনি থেকে সেই ছেলেটা রেযাহ্ বলে ডাক দিলো। ফোনের রেকর্ডার অন করে ব্যালকোনির দিকে গেলাম। 
“কিছু বলবেন?”
“আপনায় না সকালে চলে যেতে বললাম রেযাহ্?”
“না গেলে?”
“লাঁশ বের হবে আপনার।”
“জনাব! নিজ হাতে খুন করার মতো সাহস যে এখনো আপনার হয় নি! তাহলে সকালেই মারতেন।”
“আপনি ঐ ১০ টা সুইসাইডের কথা ভুলে গেছেন?”
“খুন আর সুইসাইডের পার্থক্য নিশ্চয়ই বুঝেন আপনি?”
“সময় আছে চলে যান।”
“রহস্য উন্মোচন করি তারপর যাবো।”

আগামীকালের মধ্যে যে করেই হোক ঐ বাসায় ঢুকতে হবে। তবেই নেক্সট প্ল্যান শুরু করা যাবে। করিম চাচাকে দিয়ে আরো একটা স্টেনগান, পিস্তল এবং পকেট ছুড়ি আনিয়ে রাখলাম।

সকালে পুলিশ ফোর্স নিয়েই সদর দরজার তালা ভাঙ্গলাম। দরজা খুলতেই সেখানে উপস্থিত আমরা সবাই অনেকটা ঘাবড়ে গেলাম। বাড়ি ভিতর খুব সুন্দর করে গুছানো। চারপাশে নতুন রং করা। বিভিন্ন প্রাণীর ছবি আঁকা। নিচের ফ্লোর আলাদা রকমের তৈরি করা। ভিতরে পা দিতেই অটোমেটিক দরজা বন্ধ হয়ে গেল। পিছ থেকে সেই ছেলেটা বলে “স্বাগতম রেযাহ্। একজনের বেশি তো কেউ ঢুকতে পারবে না বাড়িতে! তাই দরজা লাগিয়ে দিলাম। চলুন বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাই?”

নিচ তলা থেকে দুতলায় উঠতে লোহার সিড়ি। লাল টকটকে হয়ে আছে সিঁড়ি টা। একটু খেয়াল করে দেখলাম সিঁড়ির দুপাশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। বোধহয় সিঁড়ির নিচে কিছু পুড়ানো হচ্ছে যার কারনে সিঁড়ি এমন লাল হয়ে আছে। পাশ থেকে ছেলেটা বললো-
“এই সিঁড়ি বেয়েই উপরে উঠতে হবে। পারবেন তো?”
যেই পরিমাণে গরম সিঁড়ি জুতাও টিকবে না। আর কোন অপশনও নেই। রাজি হয়ে গেলাম। ছেলেটা দিব্যি জুতো ছাড়াই উঠে যাচ্ছে। চোখ বন্ধ করে উঠা শুরু করলাম। উঠে আসতে আসতে পা পুড়ে গেছে। হাঁটাই মুশকিল হয়ে গেছে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটা শুরু করলাম। একটু হাঁটতেই বিশাল রুম দেখলাম। সেখানকার দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের পশু দের ঝুলিয়ে রেখেছে। সেইদিন মনে হয় এই গুলোকেই খাচ্ছিলো! ছেলেটাকে কিছু বলার আগেই সে বললো-
“দূর সাহস দেখিয়েই ভুল করেছেন। চলেন ব্যাজমেন্টে নিয়ে যাই।”
“আপনি আমার কোন ক্ষতি করতে সেখানে নিয়ে যেতে চান?”
“হাহাহাহা, চলেন মিস রেযাহ্”

ব্যাজমেন্টে গিয়ে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। পাখার সাথে ফাঁসির মতো করে কঙ্কাল ঝুলানো ওড়না দিয়ে। চারপাশের দেয়ালে রক্ত ছিটানো। বিছানা জুড়ে মানুষের নাড়িভুড়ি। ফ্লোরে চোখ উঠানো বেশ কয়েকটা মাথা রাখা। 
তাৎক্ষণিক শরীরের লোম গুলো দাড়িয়ে গেল। ছেলেটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিলো। হঠাৎ করে তার চোখের দিকে তাকাতেই দেখি পিছ থেকে কিছুর মাধ্যমে কালো কাপড় এগিয়ে আসছে আমার দিকে। কৌশলে ছেলেটাকে আমার দাড়িয়ে থাকা জায়গায় ধাক্কা দিয়ে ভোঁ দৌড় দিলাম। বেজমেন্ট ছেড়ে উপরে আসতেই কিছু রোবটিক্স আমার দিকে ছুড়ি নিয়ে আগাচ্ছে। স্টেনগান হাতে নিয়ে একে একে সবার উপরে চালিয়ে দিয়ে লোহার সিঁড়ি দিয়ে সদর দরজায় আসতেই আমার টিমের লোকেরা দরজা খুলে দিলো।

আমায় দেখে সবাই করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানালো। স্যারকে ভিডিও ফুটেজটা দিয়ে হসপিটালে চলে গেলাম। পায়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে বাসায় আসতেই ব্যালকোনিতে ছেলেটা দাড়িয়ে। বিছানায় বসে তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম-
“পুলিশদের ফাঁদে ফেলা তত সহজ নয় মিঃ রিজবি সাহেব!”
“আপনি যে কলমের মাধ্যমে সারা বাড়ি ভিডিও করে নিবেন। আমি ভাবতেও পারি নি! সত্যিই ইনটেলিজেন্ট আপনি।”
“প্ল্যান সি এর আর একটু খানি বাকি আছে। প্ল্যান ডি শেষ হতে হতে আপনারা আমাদের কাস্টিডিতে থাকবেন। so be ready!”
“sure”

শরীরের উপর দিতে অনেক দখল গেছে আজ। তার উপর বেজমেন্টের করুণ দৃশ্য! একটা মানুষ এতটা হিংস্র কি করে হয়? কতটা ভয়ানক। সারা বাড়ি মৃত্যু ফাঁদে ভরা। 
ঘন্টাখানেক পর স্যার কলে ঘুম ভাঙ্গলো।
“রেযাহ্! আমরা সবাই ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। তবে তারা হয়তো তোমায় আসল জায়গাতেই নিয়ে যায় নি।”
“স্যার বেজমেন্টেই আসল জায়গা ছিল। অধিক সর্তকতা এবং সময় সল্পতার জন্য আমি যা যা দেখেছি সবটা ভিডিও তে আসে নি।”
“হবে হয়তো! তুমি রাতে আমায় মেইল করে প্ল্যান ডি এর সবটা জানিয়ে দিও। সেভাবে সব তৈরি করে রাখবো।”
“স্যার! প্ল্যান ডি তে হয়তো আমার মৃত্যুও হতে পারে! আমি চাই মৃত্যু যদি হয় তবে আমার একাই হোক। তবুও সবার বাবারা তো বেঁচে যাবে?”
“তোমার বাবার কি হবে? দেখো আমিও একজন পিতা। সন্তান হারানোর কষ্ট অনেক।” 
“প্লিজ স্যার আমায় উইক করে দিবেন না। আমি অনেক সাহস করে এই প্রজেক্ট সাইন করেছি। আমার মতো হাজারো ছেলে মেয়ের বাবার জন্য।” 
“অল দ্যা বেস্ট রেযাহ্।”
“শুকরিয়া স্যার। আসসালামু আলাইকুম।”

ফোন রাখতেই ব্যালকোনিতে নজর পড়লো রিজবি দাঁড়িয়ে মিটমিটিয়ে হাসছে। দিন যত যাচ্ছে এই ছেলেকে তত ভয় লাগে। তার হাসি প্রচন্ড রহস্যজনক। 
রিজবি নিজপর হাত গলায় সামনে নিয়ে ইশারা করে বললো-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *