Breaking News
Home / ভালবাসার গল্প / ইমুর গৃহদাহ

ইমুর গৃহদাহ

: ইমু
–হুম..
: তু‌মি এই সব অর্থহীন লেখা‌লেখি বন্ধ কর।
রুপার কথা শু‌নে ইমু কি-বোর্ড থে‌কে মুখ তু‌লে তাকায়। ফেসবুক রাইটার সে। তার লেখা গ‌ল্পে হাজার হাজার লাইক আর শত শত ক‌মে‌ন্টের ছড়াছ‌ড়ি। ফ্রেন্ডস ফ‌লোয়া‌রের সংখ্যা বি‌বেচনায় সে একজন ফেসবুক সে‌লি‌ব্রে‌টি। আর এই মে‌য়েটা ব‌লে তার লেখা অর্থহীন! তারই স্ত্রী হ‌য়ে তারই জন‌প্রিয়তায় ঈর্ষা‌ন্বিত এই মে‌য়ে!
–তু‌মি কি আমার সা‌থে ঠাট্টা করছ, রুপা?
: আ‌মি না। ঠাট্টা তো কর‌ছে তোমার ভক্তকুল। তাও আবার আমার সা‌থে।
–একজন বিখ্যাত রাইটা‌রের বউ তু‌মি। একটু তো খ্যা‌তির বিড়ম্বনা সইতেই হ‌বে।
: তুমি বুঝ‌তে পারছ না কেন, ইমু? এসব খ্যা‌তির বিড়ম্বনা নয়। তোমার অপক‌র্মের প্র‌তিফল।
–‌কি বল‌তে চাইছ তু‌মি?
: ‌তোমার নোংরা লেখ‌নিতে তু‌মি এমন সব পাঠক তৈ‌রি ক‌রেছ যারা তোমার বেডরু‌মের দি‌কে আঙুল তো‌লে।
–রুপা! কি সব আ‌বোল তা‌বোল বকছ।
: আ‌মি স‌ত্যি কথাই বল‌ছি। তোমার লেখায় কি আ‌ছে? সমা‌জের জন্য না কোন বার্তা না কোন শিক্ষা। কেবল তো যৌনতার নগ্ন ব্যাখ্যা।
–‌দে‌খো রুপা, আ‌মি যা লি‌খি এই সব কল্পনা সব নারী পুরু‌ষের ভেত‌রেই অাছে। সবার লেখনী দ্বারা প্রকাশ করার ‌যোগ্যতা নেই। কিন্তু আমার আ‌ছে। So, আমার এ প্র‌তিভার স‌ঠিক ব্যবহার কেন করব না?
–প্র‌ত্যে‌কের ম‌ধ্যেই একটা কামনার পশু বাস ক‌রে। তা‌কে নিয়ন্ত্রনে রাখাই মানু‌ষের সফলতা। কিন্তু সেই আদিম সত্ত্বা‌কে প্রকা‌শের অপ‌চেষ্টা‌কে তু‌মি প্র‌তিভা বলছ? তোমার এই প্র‌তিভা‌কে আ‌মি ঘৃনা ক‌রি।
ইমু নির্বাক হ‌য়ে রুপার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আ‌ছে। সে যখন প্রথম এই সব ট‌পিক নি‌য়ে লেখা শুরু ক‌রে তখন তা‌কে অ‌নেক কটু‌ক্তির সম্মূখীন হ‌তে হ‌য়ে‌ছে। ত‌বে তার কথা ছিল, ভা‌লো লাগ‌লে প‌ড়েন, না পড়‌লে চ‌লে যান। কিন্তু স‌ত্যি বল‌তে কি নি‌ষিদ্ধ বিষ‌য়ের প্র‌তি সবার আগ্রহই বে‌শি থা‌কে। যারা সম্মূ‌খে তার লেখার প্র‌তিবাদ করত, তারাই যে লু‌কি‌য়ে অর্থাৎ লাইক ক‌মেন্ট না ক‌রে তার লেখা পড়ত এ বিষয়টাও ইমুর অজানা ছিল না। এক সময় সব কিছুই স্বাভা‌বিক হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল। কিন্তু প্র‌তিবাদ যখন ঘর থে‌কে আ‌সে তাও আবার এমন এক প্র‌তিদ্বন্দ্বী যার কল‌মের ধার ইমুর চে‌য়ে কম নয় তখন বিষয়টা চিন্তায় ফে‌লে দেয়। তবু ইমু একট‌া যু‌ক্তি দাঁড় করা‌নোর চেষ্টা ক‌রে।
–‌দে‌খো ওই সব গ‌ল্পে লাইক ক‌মেন্ট বে‌শি আ‌সে
: তু‌মি লাইক ক‌মে‌ন্টের জন্য লে‌খো?
–একজন লেখক তো চাই‌বেই তার লেখা গল্পটা কেউ পড়ুক। আর এটার জন্য লাইক ক‌মেন্ট আবশ্যক।
: ইমু কম বে‌শি লেখা‌লে‌খি আমিও ক‌রি। একজন লেখ‌কের কি আকাঙ্খা থা‌কে জা‌নি আ‌মি। ত‌বে লেখ‌কের কিছু দা‌য়িত্বও থা‌কে।
–‌লেখ‌কের দা‌য়িত্ব পাঠক‌কে আনন্দ দান। আ‌মি সেটাই কর‌ছি।
: সেই আন‌ন্দের ম‌ধ্যেও শালীনতা থাক‌া দরকার।
–তু‌মি আমা‌কে অশালীন বলছ? এই তিন বছ‌রের সংসার জীব‌নে তু‌মি আমার ম‌ধ্যে অশালীন কি দে‌খেছ?
এইবার রুপা এ‌গি‌য়ে এসে ইমুর হাতটা নি‌জের হা‌তের ম‌ধ্যে নি‌য়ে নরম স্ব‌রে ব‌লে,
: ‌তোমার ম‌ধ্যে অশালীন কিচ্ছু নেই ইমু। তোমা‌কে স্বামী হি‌সে‌বে পে‌য়ে আ‌মি খুব খু‌শি। আমা‌কে ভুল বু‌ঝো না, প্লিজ।‌কিন্তু তোমার উ‌ত্তেজক লেখ‌নি আমার ভা‌লো লা‌গে না। তুমিই ভে‌বে দে‌খো যখন তোমার কোন ভক্ত আমা‌কে প্রশ্ন ক‌রে, “ভা‌বি বেডরু‌মে ভাই‌য়ের পারফ‌র্মেন্স কেমন?” তখন কতটা লজ্জায় পড়‌তে হয় আমা‌কে?
ইমু নিশ্চুপ।
: ইমু য‌দি পা‌রো তো Write something educative আর তা না হলে নি‌র্ভেজাল ভা‌লোবাসার গল্প লেখ। কিন্তু যা তোমার ব্য‌ক্তিত্ব‌কে প্রশ্ন‌বিদ্ধ ক‌রে, তোমার সত্যিকার প‌রিচয়টা যা‌তে ঢাকা প‌ড়ে যায় মিথ্যা খ্যা‌তির লো‌ভে এমন কিছু তু‌মি কেন লিখ‌বে?
–আ‌মি লেখা‌লে‌খি বন্ধ কর‌লে তু‌মি খু‌শি হ‌বে?
: তু‌মি ভা‌লো কিছু লিখ‌লে আ‌মি খু‌শি হব।
ইমু ডেস্কট‌পের কি-‌বোর্ডটা‌কে ঠে‌লে ভিত‌রে পা‌ঠি‌য়ে দেয়। আত্মসমর্প‌নের ভ‌ঙ্গি‌তে দু’হাত তু‌লে ব‌লে,
–‌বেশ তো। আজ থে‌কে লেখা‌লে‌খি বন্ধ। এখন আ‌মি শুধুই পাঠক। আমার বউয়ের লেখা পড়ব। যে লেখায় সমা‌জের প্র‌তি বার্তা আ‌ছে। আর তা না থাক‌লেও আ‌ছে নি‌র্ভেজাল ভা‌লোবাসার কাব্য।
: তু‌মি রাগ ক‌রে এই সব কথা বলছ?
–না রা‌গের কি আছে। এক ব‌নে দুই বাঘ থাক‌তে পা‌রে না। ইমু তার গ‌ল্পের নায়ক‌দের মত রোমা‌ন্টিক না হ‌লেও বউ পাগলা। তাই কলমটা তা‌কেই ছাড়‌তে হচ্ছে।
: থাক তোমার কলম ছাড়‌তে হ‌বে না। লিখ তু‌মি । ত‌বে যেই‌দিন তোমার গ‌ল্পের নায়ক না‌য়িকারা আ‌দিম উল্লা‌সে মত্ত হ‌য়ে তোমারই ঘ‌রে এ‌সে উঠ‌বে সে‌দিন বুঝ‌বে মজা।
রাগ ক‌রে রুপা চলে গেল। ইমু একটা দীর্ঘ‌শ্বাস ফে‌লে রুপার পেছ‌নে ছুটল। বউয়ের রাগ ভাঙা‌তে হ‌বে তো!

About online

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *