Breaking News
Home / দেশ প্রেম / লেখকের প্রেম ৪র্থ পর্ব

লেখকের প্রেম ৪র্থ পর্ব

প্রেমিকার মুখ থেকে তার মা সম্পর্কে একটা সত্য শুনেছি। সত্যটা হল, মহিলা হালিমের লবণ টেস্ট করতে করতে পাতিলের সব হালিম খেয়ে ফেলেন। এই ধরনের মহিলাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখলে বিপদ অনিবার্য। আমি দ্বিতীয় শর্তটা বলব কিনা ভাবছি। ওপাশে ভদ্রমহিলা শান্ত গলায় বললেন, দ্বিতীয় শর্ত?
আমি গম্ভীর গলায় বললাম, আগে প্রথম শর্ত পালিত হোক, তারপর দ্বিতীয় শর্ত।
আমি ফোন রেখে দিলাম। মাথা কিছুটা ধরে আছে। মাথা ধরা ছাড়ানোর জন্য জহিরের টি-স্টলে চা খেতে হবে, দুধ-চিনি বেশী দিয়ে চা। মাথা ধরা কমে যাবে। চা খেতে বের হলাম। আবহাওয়া বেশ ভাল আজকে। বসন্ত না হলেও চারপাশে বসন্তী উৎসব। এখন বাঙলা কি মাস চলছে, জানা নেই। বাঙালীরা বাঙলা মাস ছাড়া বাকি সবকিছুই মনে রাখতে পারে। আমার মতে, বাঙলা মাসের আদৌ কি দরকার ছিল…? শুধু পহেলা বৈশাখ, আর পহেলা ফাল্গুন মনে রাখার জন্যই কি আমরা লাফালাফি করে বাঙলা মাস বাঙলা মাস বলে চিল্লাই? জানি না।
চায়ে চুমুক দেয়া মাত্রই ফোন এল। সিগারেট খাওয়ার সময় ফোনে কথা বলতে বিরক্ত লাগলেও চা খাওয়ার সময় ফোনে কথা বলতে বেশ ভালই লাগে। সাবিলা ফোন দিয়েছে। তার রাগ ক্ষণস্থায়ী, নিশ্চয় রাগ ভেঙে গেছে। আমি চায়ে দ্বিতীয় চুমুক দিয়ে বললাম, Hi.
সাবিলা অবাক হয়ে বলল, তুমি হাই দিচ্ছ কেন? কখনও তো এমনটা বল না, আজ কি হয়েছে তোমার?
নাথিং!
সাবিলা রাগার চেষ্টা করল। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে রাগতে পারল না। নিজেকে ভালবাসার ফুল বানিয়ে মিষ্টি করে বলল, তোমাকে অনেক থ্যাংকস। বিয়েটা ভেঙে গেছে। শেষ মুহূর্তে আম্মুর রাগ পড়ে গেছে। আব্বুকে মাফ করে দিয়ে তিতিরকে দুটা বকা দিয়ে সব খালাশ করে দিয়েছে। তুমি আসলেই একটা জিনিয়াস!
থ্যাংক ইউ।
সাবিলা ভ্রু কুঁচকে বলল, ওমা! কি হয়েছে তোমার? কখনও তো এভাবে কথা বলো না। থ্যাংক ইউ তো দাওই না। আজ কি হয়েছে। বাঙলা খাচ্ছ? তুমি কি কোনও চিপাগলিতে?
না।
তাহলে?
জহিরের দোকানে।
থ্যাংকস গড! অসব বাঙলা-টাঙলা আবার খেয়ো না কিন্তু, অসুখ করবে।
আচ্ছা।
তুমি এত সংক্ষিপ্ত আনসার দিচ্ছো কেন? রাগ করেছো আমার উপর?
রাগ কেন করব?
হ্যাঁ, তাই তো। আচ্ছা রাখি। কখন দ্যাখা করবে জানিয়ো।
জানাব।

বেশ কিছুদিন ধরে একটা প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো: কোন জিনিশ যত বড় হয়, তত ছোট হয়। অনেকেই একেকরকম আনসার দিচ্ছে। মনোমতো হচ্ছে না কোনও উত্তরই।
ইমার বাসায় পড়াতে এসেছি। অজানা কারণেই মন বিষণ্ণ। মানুষের মন সবকিছু মনে রাখতে সক্ষম। কিন্তু আমরা যখন মনের কথা ভুলে যাই, তখন বুঝতে হবে, আমার ভেতর এখন আর সেই মনটি নেই। থাকলেও তা আমাদেরকে মনে করাতে অনিচ্ছুক। কেন আমার মন বিষণ্ণ। মন আমাদেরকে অনেক সাপোর্ট দিয়ে চলে, অথচ আমরাই মনের সাথে বেইমানি করি। নিজের মনে নিজেদের কথা না ভেবে অন্য কাওকে ভাবি, যার আমার কথা মনেই পড়ে না।
ইমা আজ ভীষণ চুপচাপ। তার খুব সম্ভব মন খারাপ। তার মন ভাল করার দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয় নি। আমি কড়া গলায় বললাম, পড়া তৈরি করেছো?
সে মিনমিন করে বলল, না।
কেন?
ইমা নিশ্চুপ। কখনও যেকাজটা করি নি, আজ তাই করলাম। বেত দিয়ে ঠাস করে একটা লাগিয়ে বললাম, কেন?
ইমার চোখে জল চলে আসছে। আমি কখনওই তার সাথে এমন আচরণ করি নি, আজ করার পেছনের কারণটাও ছোট হওয়ার কারণে সে ধরতে পারছে না। তবে উপলব্ধি করতে পারছে, আমার মনমেজাজ ভালো নেই। ঠিক এমন অসময়েই আন্টি ছুটে এল। তিনি অবাক হয়ে বললেন, বাচ্চা মেয়ের গায়ে কেও হাত তোলে?
অথচ বেশ কিছুদিন পূর্বে তিনিই বলেছিলেন, বাবা, এমন মার মারবা, যেন তোমার ভয়েই সব পড়া শিখে নেয়।
ইমাকে পড়িয়ে বের হলাম। আরেক জায়গায় নূতন টিউশনির জন্য ফোন এসেছে। সিগারেট টানতে টানতে সেই জায়গায় যাচ্ছি।
ছাত্র বা ছাত্রীর বাসায় আসার পর তিনবার কলিংবেল বাজালাম। খোলার কোনও নাম নেই। এমনটা হলে অসহ্যই লাগে। সাতবার কলিংবেল বাজানোর পর এক গম্ভীর ভদ্রলোক দরজা খুলে দিলেন। তেজি গলায় বললেন, টিউশনির জন্য এসেছো?
জি।
আসো।
আমি আসলাম। ঘরের এককোণে সোফায় বসে রইলাম। বেশ সুন্দর করে সাজানো একটা সংসার। অন্যরুমে কার্ভ টিভি (Curve TV) দ্যাখতে পাচ্ছি। টাকা জমিয়ে আমারও একটা কার্ভ টিভি কেনার খায়েশ আছে। আমার মাথার উপরে রবীন্দ্রনাথ ঝুলছেন। সামনে একটা অতি সুন্দরী বালিকা মোবাইল চালাচ্ছে অবিরাম। আমি যে একজন মেহমান, এবং আমি বাসায় আসার পর যে সামান্য চা-নাস্তার আয়োজন করতে হয়, কথা বলতে হয়, তার সেই হিউমার সেন্স তৈরি হয় নি। বেশ কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা আসলেন। তার চুলগুলো বেশ সুন্দর, বনলতা সেন। আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হেসে বললেন, বাবা, ভাল আছো?
জি আন্টি।
তুমি তো মনে হয়, অনেক জায়গায় পড়াও।
জি আন্টি।
আমি শুনেছি, তুমি ভাল পড়াও। বাবা, আমার একটাই মেয়ে। নাইনে পড়ছে। চার বিষয়ে পড়াবে। এটা আমার মেয়ে।
আমি রুমে অন্যপাশে বসে মোবাইলে ব্যস্ত থাকা মেয়েটার দিকে তাকালাম। আন্টি হাসি হাসি মুখ করে বললেন, বাবা, কত দিব?
আমি মুখে মধুর হাসি এনে বললাম, চার হাজার।
আন্টি মনে হয়, ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন। অবাক হয়ে বললেন, এত্ত!
জি।
বাবা, বলতে লজ্জা লাগছে, তোমার কথা আমি অনেক শুনেছি। তোমাকে ফিরিয়ে দিব না। তবে বাবা একটু কম হলে ভাল হতো। আমরা আসলে অতটা অবস্থা সম্পন্ন নই তো! ওর বাবা মাসে সামান্য অর্থই ইনকাম করে। যদি একটু কন্সিডার করতে…
আমি বিরক্ত গলায় বললাম, আপনারা গরীব?
জি বাবা।
তাহলে আংকেলকে যে আমি বেশ কিছুদিন ধরে মিরপুরে কার নিয়ে চলতে দ্যাখি! আপনাদের বাসা কার্ভ টিভি আছে, যার বাজারমূল্য ৫২ হাজার টাকা, মেয়ের হাতে আইফোন সিক্স, মাথার উপরে এই যে রবীগুরু -এটারও তো বিশ হাজারের উপর দাম আছে। তবুও টিউশনি টিচারের বেতন দেবার কালে আপনারা গরীব, তাই না?
আন্টি প্রায় হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকালেন। তিনি এমন জবাব আশাই করেন নি। তার নিজেকে এভাবে বোঝাতে কষ্ট হচ্ছে যে, কথাগুলো আমিই বলেছি। আজ মেজাজ গরম, আমি চলে এলাম। আসার আগে দ্যাখলাম, ছাত্রী একবার অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

সাবিলার আম্মু ফোন করেই বললেন, বাবা ইমু।
জি আন্টি। আপনাকে আসসালামু আলাইকুম।
ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা। বাবা, ভাল আছো?
জি আন্টি।
বাবা শোনো, সাবিলার বাবা তো আরেকটা অঘটন ঘটিয়েছে।
কি অঘটন?
পাশের বাসার কুমকুম ভাবি গতকাল তার কাপড় ছাদে দিয়েছিলেন শুকাতে। বিকেলে কাপড়চোপড় আনার সময় দ্যাখলেন তোমার লুচ্চা আংকেল অইখানে দাঁড়িয়ে। ভাবিও কি জানি না, মিষ্টি করে হেসে হেসে কথা জমাল। এরপর কাপড়-চোপড় আনার সময় দ্যাখে তার লাল রঙের ব্লাউজটা নাই। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজা-খুঁজির পর তা কোথায় পাওয়া গেল জানো?
কোথায়?
তোমার আংকেলের প্যান্টের পকেটে। এখন তার মেয়েদের ব্লাউজ শুঁকে দ্যাখার বদ ইচ্ছা জেগেছে। আমি একে নিয়ে কি করব বাবা, তুমিই বল।
আন্টির গলা ভারী হয়ে আসছে, তিনি আমার সামনে কাঁদতে পারছেন না। কিন্তু একটুপর কেঁদে ফেলবেন নিশ্চিত।
আমি খুব শান্ত গলায় বললাম, এরপর কি হয়েছে? ব্লাউজটা কি বের হয়েছে?
আন্টি ধরা গলায় বলল, না বাবা। তোমার আংকেল ওটা দিতেই চায় না। মেয়েদের ব্লাউজ নিয়ে তার অনেক ক্ষুধা। এখন যদি রোজরোজ পাশের বাসার ভাবীদের ব্লাউজ চুরি হয়ে যায়, তাহলে আমাদের আর এই বাসায় থাকতে হবে না।
(চলবে)

About online

Check Also

লেখকের প্রেম ৫ম পর্ব

লেখকের প্রেম ৫ম পর্ব

আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। চিন্তায় পড়ে যাবার মতনই ইস্যু। মেয়েদের ব্লাউজ চুরি করা ক্ষমার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *