Breaking News
Home / ভালবাসার গল্প / নিশি কন্যার ডাক শেষ পর্ব

নিশি কন্যার ডাক শেষ পর্ব

মেয়েটা ফোন রেখে দিল। এই ধরনের মেয়েরা রাতে ফোন দিয়ে মানুষকে বিরক্ত করে। তাদের সাথে কথা বলা মানে ঝামেলা টেনে আনা।
৮.
পুষ্পিতা মেয়েটার চরিত্রগত কিছু ত্রুটি আছে। কফি খাওয়ার সময় সে শফিকের হাত ধরেছিল। শফিকের ব্যাপারটা ভাল লাগে নি। তবুও মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুই বলে নি। মেয়েটার চোখে পানি টলমল করে। দ্যাখলেই কেমন যেন নেশা লেগে যায়। এই নেশা ভাল নয়, নারীর চাইতে গাঁজার নেশা ঢের ভাল। গাঁজা অন্ততপক্ষে প্রতারণা করে না। কফি শেষে মেয়েটা বলল, তার মাথাটা নাকি ঘুরছে। এই অবস্থায় একটা মেয়েকে একা ফেলে যাওয়া যায় না। তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় মেয়েটা বলে উঠল, আমার ঘুম প্রয়োজন, হোটেল বুক কর। শফিক কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। সুন্দরী মেয়েরা ভাবে, ছেলেরা তাদদের কাঙাল, তাদের সাথে হোটেল বুক করার অফার পেলে তারা নাচতে নাচতে প্রয়োজনে জাহান্নামে যাবে। মেয়েদের এই ধারণা ঠিক নয়। তারা নিজেদের রূপ নিয়ে ভাবতে ভাবতে এতটাই অন্ধ হয়ে গেছে, তারা আয়নার সামনে দাঁড়ালেও নিজের প্রেমে পড়ে যায়। হোটেলে আনার পর মেয়েটা শফিকের দিকে তাকিয়ে অস্বাভাবিক ভাবে হাসল, শফিকের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল।
৯.
বেশ কিছুদিন ধরে নিশি কন্যার নম্বরে ডায়াল করে চলেছি, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা হবার কঢা নয়, নিশি কন্যারা হারিয়ে যেতে পারে না। নিশ্চয়ই মেয়েটা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।আচ্ছা, নিশি কন্যা কি সত্যিই জিন…? না না! এ কি করে সম্ভব? তবে সে মাঝেমধ্যে এমন কিছু কথা বলেছে, যা আমার জীবনের সাথে পুরোপুরিভাবে মিলে গেছে। এই পৃথিবীতে মিরাকল ঘটে, কারণ আমরা মিরাকলে বিশ্বাসী। নিশি কন্যার জন্য ভীষণ মায়া হচ্ছে। মেয়েটা খুব একা। আমিও একসময় ভীষণ একা ছিলাম। তখন পাগলের মতো কাওকে খুঁজে বেড়াতাম। এখনও আমি একা, তবে কাওকে খোঁজার কথা চিন্তাও করি না। একা থাকার অভ্যাস করতে হয়। মৃত্যুর পর আমরা একাই থাকব, মৃত্যু যেমন পরম সত্য, একাকীত্বও পরম সত্য। উঠতি বয়সের মেয়েরা এই একাকীত্ব সইতে পারে না। তাদের ভেতর এখনও এই ক্ষমতার সৃষ্টি হয় নি। জিনদের বেলায়েও এই সত্য কাজে দেয় কিনা, আমার জানা নেই। জিন কন্যা আমাকে একটা কথা বলেছিল, প্রশ্ন ছিল সেটা, আচ্ছা ইমু, এই পৃথিবীতে চতুর্থ লিঙ্গ বলতে কিছু নেই কেন…? আমি যদি বলি, চতুর্থ লিঙ্গ মানে জিন, তাহলে…?
আমি এখনও এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছি। আসলেই তো! এই পৃথিবীতে চতুর্থ লিঙ্গ নেই কেন?
৯.
পুষ্পিকা নামের মেয়েটা মিনমিন করে হেসে বলল, শফিক।
শফিক ভয়ংকর রকমের ভয় পেয়ে গেল। মেয়েটার গলার স্বর পরিবর্তন হয়ে গেছে। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। সে ফ্যাকাসে চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে?
মেয়েটা আবার মিনমিন করে হেসে বলল, বলো তো আমি কে?
শফিক প্রচণ্ড রকমের হতভম্ব হয়ে বলল, নিশি কন্যা, তুই…?
হি হি হি। আমায় নটি বলো তো।
তুই এখানে এলি কিভাবে?
হি হি হি।
শফিক ঘামছে, ভীষণ ঘামছে। বাথরুমে পানির টুপটাপ আওয়াজকেও তার ভৌতিক আবহাওয়া বলে ভ্রম হচ্ছে। শফিকের পা প্রায় শক্ত হয়ে আসছে। নিশি কন্যা ফিকফিক করে হেসে বলল, বাবা দুষ্টু জিনটাকে খুঁজে না পেলে কি হবে…? আমি যে পেয়ে গেছি। হি হি হি!
শফিক ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে চেয়ে বলল, বিশ্বাস কর, তোর বান্ধবীকে আমি মারতে চাই নি। রাগের মাথায় ঘটে গেছে।
হি হি হি! তোমাকে আমি খুঁজে পেয়েছি, আমারও মাথা রেগে আছে।
বিশ্বাস কর আমায়। আর তুই এলি কিভাবে…?
নিশি কন্যা ভয়ংকর ভাবে হেসে বলল, তুই জেনে কি করবি হারামজাদা…?

পরিশিষ্ট:
পরদিন সকালে শফিকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। কিন্তু কোনও নিশি কন্যাকে পাওয়া যায় না। হোটেল ম্যানেজার জানান, শফিক নামক এক যুবক শুধুমাত্র একটি সিঙ্গেল রুমের অর্ডার করেছিলেন। তিনি দ্বিতীয় কাওকে দ্যাখেন নি। এমন কি কফিশপেও শফিক একাই কফি খেয়েছিল আর বিড়বিড় করেছিল। সেখানেও সে একটা কফিরই বিল দিয়েছে।
বেশ অনেকদিন পর নিশি কন্যা আমায় ফোন করল। আমি যেন এতদিন তার ফোনকলের আশাতেই ছিলা। আমি খুব ব্যস্তভাবে বললাম, এতদিন কোথায় ছিলে?
একটু কাজ ছিল। জানো, আমার বাবা না দুষ্টু জিনটাকে খুঁজে এনে ফাঁসি দিয়ে ফেলেছে।
শোকর গুজার।
তুমি এখন কই আছো?
টঙে।
কি করো?
সিগারেট খাই।
কাল তোমার কি হবে জানো…?
আমি খুব উৎসাহবোধ করলাম। নিশি কন্যার সব কথাই সত্য হয়। খুব আবেগ নিয়ে বললাম, কি হবে? বল বল।
নিশি কন্যা হি হি করে হাসতে হাসতে বলল, কাল তোমার প্রেমিকার সাথে তোমার দ্যাখা হবে। নতুন প্রেমিকা।

About online

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *